স্থূলতা কাকে বলে? স্থূলতা বৃদ্ধির ১২ টি কারণ, স্থূলতা প্রতিরোধের উপায়।

0
24
স্থূলতা কাকে বলে? স্থূলতা বৃদ্ধির ১২ টি কারণ, স্থূলতা কমানোর সহজ উপায়। মোটা হওয়ার কারণ । স্থূলতা প্রতিরোধের 6 টি বিশেষ উপায়।
স্থূলতা কাকে বলে? স্থূলতা বৃদ্ধির ১২ টি কারণ, স্থূলতা কমানোর সহজ উপায়। মোটা হওয়ার কারণ । স্থূলতা প্রতিরোধের 6 টি বিশেষ উপায়।

 স্বাস্থ্যই সকল সুখের মূল ‘ – একটি সুপরিচিত ও জনপ্রিয় প্রবচন । আগে সাধারণ মানুষের চোখে স্বাস্থ্যবান মানুষ বলতে দীর্ঘকায় ও মােটা – সােটা ব্যক্তিকে বােঝাত । জ্ঞান – বিজ্ঞানের আলােকে আমরা জানতে পেরেছি যে মােটা – সােটা ব্যক্তি মানেই স্বাস্থ্যবান মানুষ নয় । স্বাস্থ্যের আধুনিক সংজ্ঞা হচ্ছে : রােগ – ব্যাধি বা অন্যান্য অস্বাভাবিক পরিস্থিতিমুক্ত শারীরিক , মানসিক ও সামাজিক মঙ্গলকর অবস্থাকে স্বাস্থ্য বলে ( Mosby ‘ s Medical Dictionary , 8th edition , 2009 ) । এ সংজ্ঞা অনুযায়ী , স্থূলতাকে স্বাস্থ্যের পরিবর্তে অসুস্থতা হিসেবে বিবেচনা করে চিকিৎসাবিজ্ঞানে এক নতুন শাখার সৃষ্টি হয়েছে । আদর্শ দৈহিক ওজনের ২০ % বা তারও বেশি পরিমাণ মেদ দেহে সঞ্চিত হলে তাকে স্থূলতা বলে । স্থূলতার ফলে দেহের ওজন স্বাভাবিকভাবেই বেড়ে যায় । পূর্ণবয়স্ক মানুষে দেহের মাত্রাতিরিক্ত ওজন নির্ধারণের জন্য উচ্চতা ও ওজনের যে আনুপাতিক হার উপস্থাপন করা হয় তাকে দেহের ওজন সূচক বা বডি মাস ইনডেক্স ( Body Mass Index = BMI ) বলে । বিএমআই নির্ণয় করুন

স্থলতার ব্যাপকতায় সারা পৃথিবীর চিকিৎসা ব্যবস্থার কেন্দ্রবিন্দুতে আজ স্থূলতা নিয়ে আলােচনা হচ্ছে । এ প্রেক্ষিতে চিকিৎসাবিজ্ঞানের একটি শাখাও সৃষ্টি হয়েছে । চিকিৎসাবিজ্ঞানের যে শাখায় স্কুলতার কার , এর কারণ , প্রতিরােধ , চিকিৎসা । অস্ত্রোপচার সম্বন্ধে আলােচনা করা হয় তাকে বেরিয়াটিকস ( Bariatrics ) বলে । স্থূলতা কারণে যে সব রোগ হতে পারে তার মধ্যে রয়েছে – – করােনারি হৃদরােগ , টাইপ – ২ ডায়াবেটিস ক্যান্সার ( স্তন কোলন ) , উচ্চ রক্তচাপ , স্ট্রোক , যকৃত ও পিত্তথলির অসুখ , স্লিপ অ্যাপনিয়া , অস্টিও – আর্থাইটিস , বন্ধ্যাত্ব ইত্যাদি ।

স্থূলতার কারণ ( Causes of Obesity ) |

স্থূলতার কারণ ( Causes of Obesity ) | ১ . জিনগত কারণে স্থূলতার বৃদ্ধি
স্থূলতার কারণ ( Causes of Obesity ) |

ব্যক্তি পর্যায়ে অতিরিক্ত ক্যালরি গ্রহণ , কিন্তু পর্যাপ্ত কায়িক পরিশ্রম না করাকে স্থূলতার প্রধান কার করা হয়ে থাকে । অন্যদিকে , সামাজিক পর্যায়ে সলভ ও মজাদার খাবার গভীর উপর নির্ভরতা বেড়ে যাওয়া এবং উৎপাদন যন্ত্রের ব্যাপক ব্যবহারকে স্বলতা বৃদ্ধির কারণ বলে মনে করা হয় । তবে চিকিৎসা স্বলতা বৃদ্ধির কারণ বলে মনে করা হয় । তবে চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা যে সব কারণে স্থূলতার জন্য বিশেষভাবে দায়ী করেছেন তা নিচে উল্লেখ করা হলো ।

১ . জিনগত কারণে স্থূলতার বৃদ্ধি

সফল বিপাক এবং দেহে মেদ সঞ্চয় ও বিস্তারের ক্ষেত্রে গুচ্ছ জিন ভূমিকা পালন করে । ফুলকায় । বাবা – মায়ের সন্তান প্রায় ৮০ ভাগ ক্ষেত্রে সুলকায় হয় । নিম্ন বিপাক হার এবং জিনগত সংবেদনশীলতা সুলতার কাল হয়ে দাড়ায় ।

২ . পারিবারিক জীবনযাত্রা কারণে স্থূলতার বৃদ্ধি

পরিবারের জীবনযাত্রার উপর স্বলতা প্রকাশ অনেকখানি নির্ভর করে । খ্যাদ্যাভ্যাস পারিবারিকভাবেই গড়ে উঠে । চর্বিযুক্ত ফাস্টফুড ( বার্গার , পিৎজা ইত্যাদি ) খাওয়া , ফল , সজি ও অপরিশােধিত কার্বোহাইড্রেট ( লাল চালের ভাত ) না খাওয়া , অ্যালকোহল জাতীয় পানীয় পান করা ; দামী রেস্তোরায় খাওয়ার আগে ক্ষুধাবর্ধক ও খাওয়ার শেষে চর্বি ও চিনিযুক্ত ডেসার্ট ( dessert ) খাওয়া ।

৩ , আবেগ কারণে স্থূলতার বৃদ্ধি

বিষণতা , আশাহীনতা , ক্রোধ , একঘেয়েমি – জনিত বিরক্তি , নিজেকে ছােট ভাবা কিংবা অন্য কারণে । অতিভােজন করার ফলে স্থূলতা দেখা দিতে পারে । |

৪ . কর্মক্ষেত্র কারণে স্থূলতার বৃদ্ধি

চাকুরিজীবীদের ক্ষেত্রে ঠায় বসে থেকে কাজ করা এবং সহকর্মীদের ছাপে ফাস্টফুড বা এ জাতীয় খাবার খাওয়া । কাজ শেষে পায়ে হেটে বা সাইকেলে না চেপে গাড়ি করে বাসায় ফেরা ।

৫ মানসিক আঘাত কারণে স্থূলতার বৃদ্ধি

দুঃখজনক ঘটনাবলী , যেমন – শৈশবকালীন শারীরিক বা মানসিক অত্যাচার পিতা – মাতা হারানাের বেদনা ; কিংবা বৈবাহিক বা পারিবারিক সমস্যা ইত্যাদি অতিভােজনকে উসকে দেয় ।

৬ বিশ্রাম কারণে স্থূলতার বৃদ্ধি

বিশ্রামের সময় বাসায় বসে কেবল রিমােট – কন্ট্রোলড টিভি দেখা , ইন্টারনেট ব্রাউজ করা বা কম্পিউটারে গেম খেলার কারণে কায়িক পরিশ্রমের অভাবে স্থূলতা দেখা দেয় ।

৭ লিঙ্গভেদ কারণে স্থূলতার বৃদ্ধি

গড়পরতায় নারীর চেয়ে পুরুষদেহে বেশি পেশি থাকে । পেশি যেহেতু অন্যান্য টিস্যর চেয়ে বেশি ক্যালরি ব্যবহার করে ( এমনকি বিশ্রামের সময়ও ) পুরুষ তাই নারীর চেয়ে বেশি ক্যালরি ব্যবহার করে । এ কারণে নারী পরুষ একই পরিমাণ আহার করলেও নারীদেহে মেদ জমার সম্ভাবনা বেশি থাকে ।

৮ . গর্ভাবস্থা কারণে স্থূলতার বৃদ্ধি

প্রতিবার গভধারণে অধিকাংশ ক্ষেত্রে নারীদেহে ৪ – ৬ পাউন্ড ওজন বেড়ে যায় ।

৯ নিদ্রাহীনতা কারণে স্থূলতার বৃদ্ধি

রাতে ৬ ঘন্টার কম ঘুম হলে দেহে হরমােনজনিত পরিবর্তন ঘটে ক্ষুধাগ্রতা বেড়ে যায় ফলে বেশি পরিমাণ খাদ্য গ্রহণ করায় স্থূলতার সৃষ্টি হয় ।

১০ .শিক্ষার অভাব কারণে স্থূলতার বৃদ্ধি

সুস্বাস্থ্য সম্পর্কে ধারণা না থাকা , সুষম খাদ্য সম্পর্কে জ্ঞানের অভাব , স্থলতার ক্ষতিকর প্রভাব । সম্পর্কে না জানা ইত্যাদি কারণে স্থূলতা দেখা দেয় ।

১১ অসুখ কারণে স্থূলতার বৃদ্ধি

পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম ( Polycystic Ovary Syndrome ) হলে নারীদেহে স্থলতা দেখা দিতে পারে । তা ছাড়া , কুসিং সিনড্রোম ( Cushing ‘ s Syndrome ) , হাইপারথাইরয়েডিজম ( Hyperthyroidism ) হলেও স্থূলতা হতে পারে ।

১২ . কতক ওষুধ কারণে স্থূলতার বৃদ্ধি

কিছু ওষুধ স্থূলতার সম্ভাবনাকে উসকে দিতে পারে , যেমন – কার্টিকোস্টেরয়েডস , অবসন্ন দুর । করার ওষুধ ( অ্যান্টিডিপ্রেসেন্টস ) , জন্মবিরতিকরণ বড়ি প্রভৃতি । তাছাড়া ইনসুলিন ও কিছু ডায়াবেটিক প্রতিষেধক ওষুধও স্থূলতা সৃষ্টি করে ।

স্থূলতা প্রতিরোধ ( Prevention of Obesity ) স্থূলতা প্রতিরোধের 6 টি বিশেষ উপায়।

স্থলতাজনিত ঝুঁকির মধ্যে কেউ থাক বা না থাক সবারই এ বিষয়ে সতর্ক থাকা উচিত । স্থূলতা প্রতিরােধের জন্য নিচে উল্লেখিত আচরণ – কেন্দ্রিক বিষয়গুলাে গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ , পালন ও অনুসরণ করতে হবে । কিডনি সম্পর্কে সঠিক তথ্য

১ . নিয়মিত ব্যায়াম ; সপ্তাহে অন্তত ১৫০ – ২৫০ মিনিট দ্রুত হাঁটা বা সাঁতার কাটার অভ্যাস করতে হবে ।

২ . স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্যগ্রহণ ; কম ক্যালােরি ও পুষ্টিসমৃদ্ধ ফল , সজি ও গােটা শস্য দানা গ্রহণ করতে হবে ।

৩ . খাদ্য নিয়ন্ত্রণ ; চর্বিময় খাবার , মিষ্টিসমৃদ্ধ আহার গ্রহণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে । অ্যালকোহল গ্রহণ নিষিদ্ধ করতে হবে ।

৪ . লােভনীয় খাবার পরিহার : লােভনীয় খাবারের দিকে হাত বাড়ানাে ঠিক নয় । ভুক্তভােগীরা যেন আহার গ্রহণের সময় তাদের জন্য নির্ধারিত খাবার তালিকা কঠোরভাবে মেনে চলেন সেদিকে দৃষ্টি রাখতে হবে ।

৫ . দেহের ওজন নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা ; প্রতি সপ্তাহে নিয়মিত অন্তত একবার নিজের ওজন মেপে দেখতে হবে । রুটিন অনুযায়ী খাদ্য গ্রহণের প্রভাব কতখানি সফল হয়েছে । দীর্ঘমেয়াদী ফল পেতে হলে খাদ্য ও ব্যায়াম সংক্রান্ত | তালিকার প্রতি অটল ও বিশ্বস্ত থাকতে হবে ।

৬ . চিকিৎসা ; Orlistat Xenical ) , Lorcaserin ( Belviq ) , Phentermine ( Suprenza ) প্রভৃতি ওষুধ । চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবহৃত হয়ে থাকে । স্বলতা প্রতিকারে মানুষ আজ ঝুঁকিপূর্ণ অস্ত্রোপচারেও পিছপা হচ্ছে না ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here