হাড়ভাঙ্গা  ও হাড় ভাঙ্গার  প্রাথমিক চিকিৎসা

হাড়ভাঙ্গা ও হাড় ভাঙ্গার প্রাথমিক চিকিৎসা

অস্থিভঙ্গ বা হাড়ভাঙ্গা এবং প্রাথমিক চিকিৎসা ( Fracture of Bone and First Aid ) *অস্থিভঙ্গ হচ্ছে এমন এক চিকিৎসাগত অবস্থা যেখানে রােগী অভিন্ন হাড়ের কোথাও ভেঙ্গে যাওয়াজনিত অসুস্থতার ভােগে । প্রচন্ড শক্তি , চাপ কিংবা বিভিন্ন অসুখে ( অস্টিওপােরোসিস , অস্থিক্যান্সার ইত্যাদি ) ভঙ্গুর হয়ে যাওয়ায় অস্থিভঙ্গ অবস্থার সৃষ্টি হয় । হাড়ভাঙ্গা এবং ভাঙ্গার প্রাথমিক চিকিৎসা সম্পর্কিত সমস্ত তথ্য প্রত্যেকের জানা উচিত। এই পোস্টটি থেকে আপনি হাড়ভাঙ্গা ও প্রাথমিক চিকিৎসা সম্পর্কে ধারণা লাভ করতে পারবেন। কি কারনে হাড় ভাঙ্গা রোগ হয় ?কিভাবে এর প্রাথমিক চিকিৎসা নিলে সারিয়ে তোলা যায় ? ইত্যাদি সম্পর্কিত সকল তথ্য আপনি এই পোস্টটিতে পাবেন। অস্থিভঙ্গ প্রধানত তিন ধরনের : সাধারণ , যৌগিক ও জটিল । নিচে এদের বিবরণ দেওয়া হলাে ।হাড়জোড়া সম্পর্কে পড়ুন

সাধারণ হাড়ভাঙ্গা ( Simple Fracture ) হাড় ভাঙ্গার প্রাথমিক চিকিৎসা

যে ধরনের অস্থিভঙ্গে ভঙ্গ অস্থি চামড়া বিদীর্ণ করে বের হয় না তাকে সাধারণ অস্থিভঙ্গ বলে । এ ধরনের অস্থিভঙ্গে হাড় শুধু দুই টুকরা হয়ে যায় , এর বেশি কিছু নয় । হাড় ভেঙ্গে বাইরে বেরিয়ে আসে না বলে এ ধরনের অস্থিভঙ্গের আরেক নাম বন্ধ অস্থিভঙ্গ ( closed fracture ) ।

সাধারণ অস্থিভঙ্গের লক্ষণ ( Symptoms of Simple Fracture ) সাধারণ অস্থিভঙ্গের যে সব লক্ষণ প্রকাশ পায় তাতে দুশ্চিন্তাগ্রস্থ হওয়ার কারণ নেই , ধীরে সুস্থে চিকিৎসকের কাছে গেলেই হবে । লক্ষণগুলো হচ্ছে – ফুলে যাওয়া ; কালশিরা পড়া ; থেকে থেকে প্রচন্ড ব্যথা হওয়া , কিন্তু ব্যথা সারতে দেরি হওয়া : কাটা ফোটানাের অনুভূতি জাগা , অসাঢ় বােধ হওয়া ; পদ ও সন্ধির নিশ্চিত ভুল জায়গায় স্থাপন ; সামান্য ওজনের জিনিষও বহনে কষ্ট পাওয়া ইত্যাদি ।

যৌগিক হাড়ভাঙ্গা ( Compound Fracture ) হাড় ভাঙ্গার প্রাথমিক চিকিৎসা

যোগিক হাড়িভাঙ্গা উন্মুক্ত হাড়ভাঙ্গা নামেও পরিচিত্র । সাধারণত খেলাধূলার সময় কিংবা সৎ হতাসা ঘটে , তখন হাড়ের টুকরা চামড়া ভেদ করে বেরিয়ে আসে । এটি বেশ জটিল হাড়ভাঙ্গা কারণ এ খেলাধূলার সময় কিংবা সড়ক দুর্ঘটনায় এ ধরনের | এটি বেশ জটিল হাড়ভাঙ্গা কারণ এতে প্রচুর । পরিমাণ রক্তপাত হয় এবং দ্রুত সংক্রমণ ঘটে । যৌগিক হাড়ভাঙ্গার ক্ষেত্রেও সাধারণ হাতু দেওয়া যেতে পারে , তবে তা ক্ষণকালীন । কারণ যৌগিক হাড়ভাঙ্গা এত গুরুতর যা অত্র । মণ হাড়ভাঙ্গার মতাে প্রাথমিক চিকিৎসা । ত্রাপচার ছাড়া বিকল্প চিকিৎসা ।

যৌগিক হাড়ভাঙ্গার প্রকারভেদ কতির ভিত্তিতে যৌগিক হাড়ভাঙ্গাকে ৩ ভাগে ভাগ । হাড়ভাঙ্গার প্রকৃতির ভিতি করা যায় । | ধুরন ১ : ক্ষতের পরিমা রুত দেখা যায় না এবং বা | ধরন ২ : ক্ষতের পরিমাণ । ক্ষত , টিস্যুর ক্ষতি দেখ . ক্ষতের পরিমাণ কম , ‘ চামড়ায় ১ সে . মি . – এর বেশি । খা যায় না এবং রক্তপাতও হয় কম । . ক্ষতের পরিমাণ বেশি , চামড়ায় ১ সে . মি . – এর বেশি এর ক্ষতি দেখা যায় না এবং চামড়ারও তেমন ক্ষতি হয় না । ৩ . এক্ষেত্রে চামড়া , টিস্যু ও হাড়ের মারাত্মক ক্ষতি হয় । কর সংক্রমণ এড়াতে দ্রুত চিকিৎসাকেন্দ্রে নিয়ে যেতে হয় । । | যৌগিক হাড়ভাঙ্গার লক্ষণ । হাড় ভেঙ্গে টিস্যু ও চামড়া ভেদ করে বেরিয়ে আসা , প্রচুর রক্তপাত ও সাধারণ যৌগিক জটিল । যন্ত্রণাময় ক্ষত সৃষ্টি হওয়া যৌগিক হাড়ভাঙ্গার লক্ষণ ।

জটিল হাড়ভাঙ্গা ( Complex Fracture ) হাড় ভাঙ্গার প্রাথমিক চিকিৎসা

জটিল হাড়ভাঙ্গার ফলে বেশ কয়েকটি হাড় , অস্থিসন্ধি , টেন্ডন ও লিগামেন্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয় । যৌগিক হাড়ভাঙ্গার মতাে এক্ষেত্রে হাড়ের টুকরা চামড়া ভেদ করে বেরিয়ে থাকে । জটিল হাড়ভাঙ্গাকে নানা ধরনে ভাগ করা যায় , এর মধ্যে প্রধান । দুটি হচ্ছে :

  • ১ . বহু – টুকাবিশিষ্ট ( Multifragmentary fracture ) : এক্ষেত্রে হাড় অনেকগুলাে ছােট টুকরায় পরিণত হয় ।
  • ২ . কয়েক – টুকরাবিশিষ্ট ( Comminuted fracture ) : এ ধরনের জটিল হাড়ভাঙ্গায় হাড়ের টুকরাগুলাে আগের ধরনের চেয়ে সামান্য বড় এবং সংখ্যায় কম থাকে ।

জটিল হাড়ভাঙ্গার লক্ষণাদি দেখে চিকিৎসক দ্রুত অস্ত্রোপচারের ব্যবস্থা নেবেন , তবে তার আগে এক্স – রে রিপাের্ট দেখে নিতে হয় । এ ধরনের হাড়ভাঙ্গা থেকে রক্ষা পেতে হলে সড়ক পথে সাবধানে চলাচল , উঁচু স্থান থেকে সাবধানে লাক দেওয়া , বয়স্কদের হাড় ভঙ্গুর হওয়ায় তাদের আরও বেশি সতর্ক থাকতে হবে । | জটিল হাড়ভাঙ্গার ক্ষেত্রে প্রাথমিক চিকিৎসা বলতে কিছু নেই । দুর্ঘটনা ঘটার সঙ্গে সঙ্গে রােগীকে হাসপাতাল ও চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যথাযথ চিকিৎসার ব্যবস্থা করা ছাড়া এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ ও পরিচর্যা অব্যাহত রাখা ছাড়া , প্রয়ােজনে পুনর্বাসন কেন্দ্রে নিয়ে রাখা ও খোঁজ – খবর নেওয়া ছাড়া কিছু করার নেই । স্থূলতা কাকে বলে? স্থূলতা বৃদ্ধির ১২ টি কারণ, স্থূলতা প্রতিরোধের উপায়।

হাড়ভাঙ্গা ও হাড় ভাঙ্গার প্রাথমিক চিকিৎসা

অস্থিভঙ্গের কারণে দেহকষ্ট যেন না বাড়ে সে জন্য দ্রুত প্রাথমিক চিকিৎসা প্রয়ােজন । এ চিকিৎসা সম্বন্ধে অজ্ঞ কোনাে ব্যক্তি যেন আঘাতপ্রাপ্ত জায়গায় হাতও না দেয় সে বিষয়ে অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে এবং দ্রুত যে পদ্ধতিগুলাে অনুসরণ করতে হবে তা হচ্ছে : |অস্থিতঙ্গের মাত্রা ও সঠিক স্থান চিহ্রিত করতে হবে । আঘাতপ্রাপ্ত ব্যক্তির নড়াচড়া বন্ধ রাখতে হবে । সমস্ত ক্ষত । পরিষ্কার করতে হবে । রক্ত সঞ্চালনে বাধা হতে পারে এমন টাইট জামা – কাপড় , গয়না – গাটি সরিয়ে ফেলতে হবে তা না হলে ভাঙ্গা হাড়ে রক্ত সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাবে ।

ভাঙ্গা হাড়ের জায়গায় রক্তপ্রবাহ , সঞ্চালন ও সংবেদন পরীক্ষা করতে হবে । ভাঙ্গা হাড় যথাস্থানে বসানাের জন্য তার সঙ্গে কাঠের খন্ড বা বাঁশের চটি বেঁধে দিতে হবে । রক্ত প্রবাহ ও সঞ্চালন পুনর্বার পরীক্ষা করতে হবে । ভাঙ্গা হাড়ের জায়গাটি যেন ফুলে না উঠে সে জন্য আঘাত পাওয়া জায়গা ৬ – ১০ ইঞ্চি উঁচুতে রাখতে হবে । অস্থিভঙ্গের জায়গায় বরফ দেওয়া যেতে পারে তবে দেখতে হবে জায়গাটি যেন ঠান্ডায় অসাঢ় না হয়ে যায় ।

হঠাৎ ও মারাত্মক আঘাত পেয়েছে আহত ব্যক্তি যেন এমনটি মনে না করে সে জন্য তাকে চাঙ্গা রাখতে হবে । এবং মাথা , ঘাড় ও শরীরের বিভিন্ন অংশ সাবধানে নড়াচড়া করতে হবে । মানসিক আঘাতে কাহিল না হলে রােগীকে ব্যথানাশক ওষুধ দিতে হবে । দ্রুত আঘাতপ্রাপ্তির স্থল থেকে সরিয়ে ফেলতে হবে । পরবতা ধাপ হচ্ছে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যেতে হবে । চিকিৎসক প্রাস্টার লাগিয়ে প্রয়ােজনীয় ওষুধের ব্যবস্থা | ও চিকিৎসাপত্র দেবেন । দেখা গেছে , সাধারণ অস্থিভঙ্গ ৮ সপ্তাহের মধ্যে সেড়ে যায় ।

Anysoll

We The Group of anysoll.com website. We publish  All-time update news. Mainly we publish Movie news, Hero and heroine news, Cricket news, Upcoming movie news, celebrity news, sports news, politics news and more news. like our Facebook group and page.

Leave a Reply