হাড়ভাঙ্গা ও হাড় ভাঙ্গার প্রাথমিক চিকিৎসা

0
21
সন্ধিচ্যুতি,মচকানো ও হাড় ভাঙ্গা এবং লিগামেন্ট ছিড়ে যাওয়া,হাড় ভাঙ্গা প্রতিরোধ ও করণীয় ,হাড়ভাঙ্গা ও হাড় ভাঙ্গার প্রাথমিক চিকিৎসা ,
সন্ধিচ্যুতি,মচকানো ও হাড় ভাঙ্গা এবং লিগামেন্ট ছিড়ে যাওয়া,হাড় ভাঙ্গা প্রতিরোধ ও করণীয় ,হাড়ভাঙ্গা ও হাড় ভাঙ্গার প্রাথমিক চিকিৎসা ,

অস্থিভঙ্গ বা হাড়ভাঙ্গা এবং প্রাথমিক চিকিৎসা ( Fracture of Bone and First Aid ) *অস্থিভঙ্গ হচ্ছে এমন এক চিকিৎসাগত অবস্থা যেখানে রােগী অভিন্ন হাড়ের কোথাও ভেঙ্গে যাওয়াজনিত অসুস্থতার ভােগে । প্রচন্ড শক্তি , চাপ কিংবা বিভিন্ন অসুখে ( অস্টিওপােরোসিস , অস্থিক্যান্সার ইত্যাদি ) ভঙ্গুর হয়ে যাওয়ায় অস্থিভঙ্গ অবস্থার সৃষ্টি হয় । হাড়ভাঙ্গা এবং ভাঙ্গার প্রাথমিক চিকিৎসা সম্পর্কিত সমস্ত তথ্য প্রত্যেকের জানা উচিত। এই পোস্টটি থেকে আপনি হাড়ভাঙ্গা ও প্রাথমিক চিকিৎসা সম্পর্কে ধারণা লাভ করতে পারবেন। কি কারনে হাড় ভাঙ্গা রোগ হয় ?কিভাবে এর প্রাথমিক চিকিৎসা নিলে সারিয়ে তোলা যায় ? ইত্যাদি সম্পর্কিত সকল তথ্য আপনি এই পোস্টটিতে পাবেন। অস্থিভঙ্গ প্রধানত তিন ধরনের : সাধারণ , যৌগিক ও জটিল । নিচে এদের বিবরণ দেওয়া হলাে ।হাড়জোড়া সম্পর্কে পড়ুন

সাধারণ হাড়ভাঙ্গা ( Simple Fracture ) হাড় ভাঙ্গার প্রাথমিক চিকিৎসা

যে ধরনের অস্থিভঙ্গে ভঙ্গ অস্থি চামড়া বিদীর্ণ করে বের হয় না তাকে সাধারণ অস্থিভঙ্গ বলে । এ ধরনের অস্থিভঙ্গে হাড় শুধু দুই টুকরা হয়ে যায় , এর বেশি কিছু নয় । হাড় ভেঙ্গে বাইরে বেরিয়ে আসে না বলে এ ধরনের অস্থিভঙ্গের আরেক নাম বন্ধ অস্থিভঙ্গ ( closed fracture ) ।

সাধারণ অস্থিভঙ্গের লক্ষণ ( Symptoms of Simple Fracture ) সাধারণ অস্থিভঙ্গের যে সব লক্ষণ প্রকাশ পায় তাতে দুশ্চিন্তাগ্রস্থ হওয়ার কারণ নেই , ধীরে সুস্থে চিকিৎসকের কাছে গেলেই হবে । লক্ষণগুলো হচ্ছে – ফুলে যাওয়া ; কালশিরা পড়া ; থেকে থেকে প্রচন্ড ব্যথা হওয়া , কিন্তু ব্যথা সারতে দেরি হওয়া : কাটা ফোটানাের অনুভূতি জাগা , অসাঢ় বােধ হওয়া ; পদ ও সন্ধির নিশ্চিত ভুল জায়গায় স্থাপন ; সামান্য ওজনের জিনিষও বহনে কষ্ট পাওয়া ইত্যাদি ।

যৌগিক হাড়ভাঙ্গা ( Compound Fracture ) হাড় ভাঙ্গার প্রাথমিক চিকিৎসা

যোগিক হাড়িভাঙ্গা উন্মুক্ত হাড়ভাঙ্গা নামেও পরিচিত্র । সাধারণত খেলাধূলার সময় কিংবা সৎ হতাসা ঘটে , তখন হাড়ের টুকরা চামড়া ভেদ করে বেরিয়ে আসে । এটি বেশ জটিল হাড়ভাঙ্গা কারণ এ খেলাধূলার সময় কিংবা সড়ক দুর্ঘটনায় এ ধরনের | এটি বেশ জটিল হাড়ভাঙ্গা কারণ এতে প্রচুর । পরিমাণ রক্তপাত হয় এবং দ্রুত সংক্রমণ ঘটে । যৌগিক হাড়ভাঙ্গার ক্ষেত্রেও সাধারণ হাতু দেওয়া যেতে পারে , তবে তা ক্ষণকালীন । কারণ যৌগিক হাড়ভাঙ্গা এত গুরুতর যা অত্র । মণ হাড়ভাঙ্গার মতাে প্রাথমিক চিকিৎসা । ত্রাপচার ছাড়া বিকল্প চিকিৎসা ।

যৌগিক হাড়ভাঙ্গার প্রকারভেদ কতির ভিত্তিতে যৌগিক হাড়ভাঙ্গাকে ৩ ভাগে ভাগ । হাড়ভাঙ্গার প্রকৃতির ভিতি করা যায় । | ধুরন ১ : ক্ষতের পরিমা রুত দেখা যায় না এবং বা | ধরন ২ : ক্ষতের পরিমাণ । ক্ষত , টিস্যুর ক্ষতি দেখ . ক্ষতের পরিমাণ কম , ‘ চামড়ায় ১ সে . মি . – এর বেশি । খা যায় না এবং রক্তপাতও হয় কম । . ক্ষতের পরিমাণ বেশি , চামড়ায় ১ সে . মি . – এর বেশি এর ক্ষতি দেখা যায় না এবং চামড়ারও তেমন ক্ষতি হয় না । ৩ . এক্ষেত্রে চামড়া , টিস্যু ও হাড়ের মারাত্মক ক্ষতি হয় । কর সংক্রমণ এড়াতে দ্রুত চিকিৎসাকেন্দ্রে নিয়ে যেতে হয় । । | যৌগিক হাড়ভাঙ্গার লক্ষণ । হাড় ভেঙ্গে টিস্যু ও চামড়া ভেদ করে বেরিয়ে আসা , প্রচুর রক্তপাত ও সাধারণ যৌগিক জটিল । যন্ত্রণাময় ক্ষত সৃষ্টি হওয়া যৌগিক হাড়ভাঙ্গার লক্ষণ ।

জটিল হাড়ভাঙ্গা ( Complex Fracture ) হাড় ভাঙ্গার প্রাথমিক চিকিৎসা

জটিল হাড়ভাঙ্গার ফলে বেশ কয়েকটি হাড় , অস্থিসন্ধি , টেন্ডন ও লিগামেন্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয় । যৌগিক হাড়ভাঙ্গার মতাে এক্ষেত্রে হাড়ের টুকরা চামড়া ভেদ করে বেরিয়ে থাকে । জটিল হাড়ভাঙ্গাকে নানা ধরনে ভাগ করা যায় , এর মধ্যে প্রধান । দুটি হচ্ছে :

  • ১ . বহু – টুকাবিশিষ্ট ( Multifragmentary fracture ) : এক্ষেত্রে হাড় অনেকগুলাে ছােট টুকরায় পরিণত হয় ।
  • ২ . কয়েক – টুকরাবিশিষ্ট ( Comminuted fracture ) : এ ধরনের জটিল হাড়ভাঙ্গায় হাড়ের টুকরাগুলাে আগের ধরনের চেয়ে সামান্য বড় এবং সংখ্যায় কম থাকে ।

জটিল হাড়ভাঙ্গার লক্ষণাদি দেখে চিকিৎসক দ্রুত অস্ত্রোপচারের ব্যবস্থা নেবেন , তবে তার আগে এক্স – রে রিপাের্ট দেখে নিতে হয় । এ ধরনের হাড়ভাঙ্গা থেকে রক্ষা পেতে হলে সড়ক পথে সাবধানে চলাচল , উঁচু স্থান থেকে সাবধানে লাক দেওয়া , বয়স্কদের হাড় ভঙ্গুর হওয়ায় তাদের আরও বেশি সতর্ক থাকতে হবে । | জটিল হাড়ভাঙ্গার ক্ষেত্রে প্রাথমিক চিকিৎসা বলতে কিছু নেই । দুর্ঘটনা ঘটার সঙ্গে সঙ্গে রােগীকে হাসপাতাল ও চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যথাযথ চিকিৎসার ব্যবস্থা করা ছাড়া এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ ও পরিচর্যা অব্যাহত রাখা ছাড়া , প্রয়ােজনে পুনর্বাসন কেন্দ্রে নিয়ে রাখা ও খোঁজ – খবর নেওয়া ছাড়া কিছু করার নেই । স্থূলতা কাকে বলে? স্থূলতা বৃদ্ধির ১২ টি কারণ, স্থূলতা প্রতিরোধের উপায়।

হাড়ভাঙ্গা ও হাড় ভাঙ্গার প্রাথমিক চিকিৎসা

অস্থিভঙ্গের কারণে দেহকষ্ট যেন না বাড়ে সে জন্য দ্রুত প্রাথমিক চিকিৎসা প্রয়ােজন । এ চিকিৎসা সম্বন্ধে অজ্ঞ কোনাে ব্যক্তি যেন আঘাতপ্রাপ্ত জায়গায় হাতও না দেয় সে বিষয়ে অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে এবং দ্রুত যে পদ্ধতিগুলাে অনুসরণ করতে হবে তা হচ্ছে : |অস্থিতঙ্গের মাত্রা ও সঠিক স্থান চিহ্রিত করতে হবে । আঘাতপ্রাপ্ত ব্যক্তির নড়াচড়া বন্ধ রাখতে হবে । সমস্ত ক্ষত । পরিষ্কার করতে হবে । রক্ত সঞ্চালনে বাধা হতে পারে এমন টাইট জামা – কাপড় , গয়না – গাটি সরিয়ে ফেলতে হবে তা না হলে ভাঙ্গা হাড়ে রক্ত সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাবে ।

ভাঙ্গা হাড়ের জায়গায় রক্তপ্রবাহ , সঞ্চালন ও সংবেদন পরীক্ষা করতে হবে । ভাঙ্গা হাড় যথাস্থানে বসানাের জন্য তার সঙ্গে কাঠের খন্ড বা বাঁশের চটি বেঁধে দিতে হবে । রক্ত প্রবাহ ও সঞ্চালন পুনর্বার পরীক্ষা করতে হবে । ভাঙ্গা হাড়ের জায়গাটি যেন ফুলে না উঠে সে জন্য আঘাত পাওয়া জায়গা ৬ – ১০ ইঞ্চি উঁচুতে রাখতে হবে । অস্থিভঙ্গের জায়গায় বরফ দেওয়া যেতে পারে তবে দেখতে হবে জায়গাটি যেন ঠান্ডায় অসাঢ় না হয়ে যায় ।

হঠাৎ ও মারাত্মক আঘাত পেয়েছে আহত ব্যক্তি যেন এমনটি মনে না করে সে জন্য তাকে চাঙ্গা রাখতে হবে । এবং মাথা , ঘাড় ও শরীরের বিভিন্ন অংশ সাবধানে নড়াচড়া করতে হবে । মানসিক আঘাতে কাহিল না হলে রােগীকে ব্যথানাশক ওষুধ দিতে হবে । দ্রুত আঘাতপ্রাপ্তির স্থল থেকে সরিয়ে ফেলতে হবে । পরবতা ধাপ হচ্ছে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যেতে হবে । চিকিৎসক প্রাস্টার লাগিয়ে প্রয়ােজনীয় ওষুধের ব্যবস্থা | ও চিকিৎসাপত্র দেবেন । দেখা গেছে , সাধারণ অস্থিভঙ্গ ৮ সপ্তাহের মধ্যে সেড়ে যায় ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here