ইনসুলিন উৎপাদন – ইনসুলিন হরমোনের কাজ – শর্করার নিয়ন্ত্রণে হরমোনের ভূমিকা

ইনসুলিন উৎপাদন – ইনসুলিন হরমোনের কাজ – শর্করার নিয়ন্ত্রণে হরমোনের ভূমিকা

ইনসুলিন হলো এক ধরনের হরমােন যা মানব অগ্ন্যাশয়ে আইলেটস অব লাঙ্গারহ্যান্স এর থেকে ক্ষরিত হয় । ইনসুলিন মানুষের একটি গুরুত্বপূর্ণ হরমােন যা অগ্ন্যাশয়ের ( Pakreis ) বিটা – কোষ হতে ক্ষরিত হয় । যায় এবং রক্তে বিদ্যমান গুকোজের উচ্চ মাত্রাকে কমিয়ে স্বাভাবিক মাত্রায় নিয়ে আসে । কোনাে কারণে অগ্ন্যাশয় ইনসুলিন নিঃসৃত না হলে অথবা কম নিঃসৃত হলে অথবা নিঃসৃত ইনসুলিন অকার্যকর হলে রক্তে গুকোজের মাত্রা বেড়ে যায় , অর্থাৎ ডায়াবেটিস রােগ হয় । এমতাবস্থায় ডায়াবেটিক রােগীকে ইনসুলিন ইনজেকশন নিতে হয় । বাংলাদেশে এ ধরনের রােগীর সংখ্যা লক্ষ লক্ষ , তাই ইনসুলিনের চাহিদাও ব্যাপক । কিভাবে ইনসুলিন উৎপাদন করতে হয় ?এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো ।

রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে ইনসুলিন হরমোনের ভূমিকা

রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণে ইনসুলিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে |  ইনসুলিন উৎপাদন এরপরে রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণে কারণে ইনজেকশনের মাধ্যমে ইনসুলিন প্রবেশ করানো হয় |  যার কারণে দেহে শর্করা নিয়ন্ত্রণ  হয়  | সর্কারা সাধারণত দেহের বিভিন্ন উপকারে আসে তবে কারো দেহে যদি সরকার কমে যায় তাহলে ইনসুলিন এর মাধ্যমে এটি দেহের ভিতর পরানো হয় এবং পুনরায় শর্করার পরিমাণ বৃদ্ধি পায় | 

ইনসুলিন সম্পর্কিত প্রাথমিক ধারণা ইনসুলিন কি ?

ইনসুলিন ৫১টি অ্যামিনাে অ্যাসিড নিয়ে গঠিত ক্ষুদ্রাকার সরল প্রােটিন । দুটি পলিপেপটাই চেইন ( ২১টি অ্যামাইনাে অ্যাসিড নিয়ে গঠিত চেইন – A এবং ৩০টি অ্যামিনাে অ্যাসিড নিয়ে গঠিত চেইন – B ) দুটি ডাইসালফাইড বন্ডের মাধ্যমে সংযুক্ত হয়ে একটি ইনসুলিন অণু গঠন করে । এর রাসায়নিক সংকেত হলাে : C254H377O75S6 আণবিক ভর ৫৭৩৪ ।

বর্তমানে মানুষের ইনসুলিন উৎপাদনকারী জিন E . coli – তে স্থানান্তর করে ব্যাপক হারে ইনসুলিন উৎপাদন করা হচ্ছে । একটি ব্যাক্টেরিয়াম কোষে প্রায় দশ লক্ষ অণু ইনসুলিন তৈরি হয়ে থাকে । হাড়ভাঙ্গা ও হাড় ভাঙ্গার প্রাথমিক চিকিৎসা

জিন প্রকৌশলের মাধ্যমে মানুষের ইনসুলিন উৎপাদন

ডায়াবেটিস রােগের চিকিৎসায় প্রচুর পরিমাণে ইনসুলিন প্রয়ােজন , কিন্তু প্রকৃতিতে এত ইনসুলিন কোথায় ? একসময় গরু বা শূকরের অগ্ন্যাশয় থেকে ইনসুলিন সংগ্রহ করে তা মানুষের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হতাে । কিন্তু গরু বা শূকর থেকে নেয়া ইনসুলিন মানুষের জন্য ততটা উপযােগী নয় । কাজেই জিন প্রকৌশল জ্ঞান কাজে লাগিয়ে মানুষের জিনকে ব্যবহার করে কৃত্রিম উপায়ে ইনসুলিন উৎপাদনের উদ্যোগ নেয়া হয় এবং এক সময় তা সফল হয় । প্রথমেই মানুষের DNA – তে ইনসুলিন উৎপাদনকারী জিনের অবস্থান নির্ণয় করা হয় । তা হলাে ১১ নং ক্রোমােসােমের খাটো বাহর DNA – এর শীর্ষে । এতে ১৫৩টি নাইট্রোজেন – বেস নিয়ে গঠিত ইনস্যুলিনের জেনেটিক কোড বিদ্যমাঠ ।

জিন প্রকৌশল তথা জীবপ্রযুক্তির মাধ্যমে মানব ইনসুলিন উৎপাদন কৌশল আবিষ্কার করেন আমেরিকার Eli Lily & Corparay , যা ১৯৮২ সালে প্রথম বাজারজাত করা হয় হিউমুলিন ‘ নামে ।

ইনসুলিন উৎপাদন প্রক্রিয়া

 ইনসুলিন উৎপাদন প্রক্রিয়া
Images on Canva

ইনসুলিন উৎপাদনকারী জিন শনাক্তকরণ ; মানবদেহে ইনসুলিন উৎপাদনকারী ঝিনটির অবস্থান বর্তমানে ১১নং ক্রোমােসােমের খাটো বাহুর শীর্ষ অংশের DNA – তে এই অবস্থিত ।

DNA সূত্র থেকে ইনসুলিন জিন অংশ পৃথককরণ ;

রেস্ট্রিকশন এনজাইম প্রয়ােগ করে মানব DNA থেকে কাৰী জিন অংশ বিশেষ উপায়ে কেটে পৃথক করা হয় ।

বাহক প্ৰাসমিড পৃথককরণ :

ইনসুলিন জিনকে বহন করার জন্য E coli ব্যাকটেরিয়াম থেকে বিশেষ কৌশলে । প্রসমিড পৃথক করা হয় ।

E . coli প্লাজমিড DNA – এর একাংশ কর্তন :

রেস্ট্রিকশন এনজাইম প্রয়ােগ করে ইনসুলিন জিনের সমপরিমাণ । পাসমিড DNA অংশ কেটে স্থান ফাকা করা হয় ।

প্লাসমিড DNA – তে ইনসুলিন জিন স্থাপন :

প্রাসমিড DNA – এর কর্তিত ফাঁকা স্থানে মানুষের ইনসুলিন জিন DNA অংশ ) বসিয়ে দেয়া হয় এবং লাইগেজ এনজাইম প্রয়ােগ করে প্রাসমিড DNA এবং মানব DNA সংযুক্ত করে নেয়া হয় । এবার তৈরি হলাে রিকম্বিনেন্ট DNA বা রিকম্বিনেন্ট প্রাসমিড

রিকম্বিনেন্ট প্লাসমিড় একটি E . coli ব্যাকটেরিয়ামে প্রবেশ করানাে :

এটি করা হয় ট্রান্সফরমেশন প্রক্রিয়ায় । এটা হিট শক মেথড় অথবা , ইলেক্ট্রিক পাস মেথডে করা হয় । যে ব্যাকটেরিয়া রিকম্বিনেন্ট প্লাসমিড় বহন করবে তাকে Vector ( বাহক ) বলা হয় । বাহক অবশ্যই নিজস্ব প্লাসমিড মুক্ত হতে হবে । প্লাসমিড গ্রহণ করার জন্য ভেক্টরকে Competent ( উপযুক্ত ) হতে হয় । হিট শক মেথড অনুসারে ভেক্টরকে ( E _ cali ) . প্রথমে CaCl ; দ্রবণে ডুবিয়ে ১৪ – ১৬ ঘণ্টা বরফে রাখা হয় । এতে E . coli – এর কোষ প্রাচীরে Ca লেগে থেকে E . coli কোষকে প্লাসমিড গ্রহণ করার জন্য Competent করে থাকে । এরপর E . coli কোষ এবং রিকম্বিনেন্ট প্লাসমিডকে একত্রে মিকচার করে একটি পাত্রে আধা । ঘন্টা বরফে , পরে ৪২°C তাপে ৯০ সেকেন্ড এবং পুনরায় ২ মিনিট বরফে রাখলে E . coti কোষ শােষণ করে প্লাসমিড । দেহাভ্যন্তরে নিয়ে নেয় । এবার E . coli কোষ ইনসুলিন জিনসহ GMO E . coli – এ পরিণত হলাে ।

ফার্মেন্টেশন ট্যাংকে GMO E . coli সংখ্যা বৃদ্ধিকরণ :

এবার GMO E . coli তথা ট্রান্সজেনিক E . coti কে নির্দিষ্ট কালচার মিডিয়াযুক্ত ফার্মেন্টেশন ট্যাংকে নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় রাখা হয় । ফার্মেন্টেশন ট্যাংকে অল্প সময়ের ব্যবধানে লক্ষ লক্ষ ট্রান্সজেনিক E . coli সৃষ্টি হয় এবং সাথে প্রতি কোষে উৎপাদিত ইনসুলিন জমা হয় ।

ইনসুলিন পৃথকীকরণ :

ইনসুলিন তৈরি হয়ে কোষের অভ্যন্তরে অবস্থান করে । তাই E , coti কোষসমূহকে lysis ( বিগলিত ) করে ইনসুলিন আহরণ করা হয়

বিশুদ্ধকরণ :

ব্যাকটেরিয়াকে বিগলন করার মাধ্যমে যে ইনসুলিন পাওয়া যায় তাতে ব্যাকটেরিয়ার নিজস্ব অনেক প্রােটিনও থাকা স্বাভাবিক । তাই আহরিত ইনসুলিনকে বিশুদ্ধ করা হয় ।

বাজারজাতকরণ :

উৎপাদন পরবতীতে উপযুক্ত অ্যাম্পুল ভরে ইনসুলিন বাজারজাত করা হয় এবং ইনজেকশনে ভরে সঠিক পরিমাণে ও সঠিক সময়ে পেশিতে পুশ করা হয় । দেহে ইনসুলিন রক্তের সাথে প্রবাহিত হয়ে দেহকোষের মেমব্রেনে উপযুক্ত রিলে মেমব্রেনে উপযুক্ত রিসেপ্টিভ সাইট তৈরি করে যার ফলে রক্ত থেকে গুকোজ কোষের ভেতরে প্রবেশ করে এবং রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা স্বাভাবিক হয়ে আসে ।

ইনসুলিন হরমোনের কাজ 

ইনসুলিন হরমোনের অনেক ধরনের কাজ করে কারো শরীরে যদি ডায়াবেটিস এর পরিমাণ বৃদ্ধি পায় তাহলে ইনসুলিন প্রদান করার মাধ্যমে তা থেকে মুক্তি ঘটে |  ডায়াবেটিস মূলত একটি ক্ষতিকর যার কারণে মানুষ কিডনি  বিকল হতে পারে | 

 রক্তে ইনসুলিনের পরিমাণ কমে যায় তাহলে ইনসুলিন প্রদান করা হয় | সাধারণত দুটি পদ্ধতিতে ইনসুলিন প্রদান করা হয় | 

  1.  ইনজেকশনের মাধ্যমে
  2.  খাবারের  ঔষধ  এর মাধ্যমে

 উপরের দুটি পদ্ধতি ইনসুলিন হরমোন প্রদান করা হয় |  এগুলো স্বাভাবিক নিয়ন্ত্রণ মাত্রা ফিরে আসে |

Anysoll

We The Group of anysoll.com website. We publish  All-time update news. Mainly we publish Movie news, Hero and heroine news, Cricket news, Upcoming movie news, celebrity news, sports news, politics news and more news. like our Facebook group and page.

This Post Has One Comment

  1. জজ

    নমস্কার

Leave a Reply